পাতায় পাতায় কথকতায়

অলক্তা মাইতি

কালের যাত্রার ধ্বনি বারবার মুখরিত করেছে ভাষাকে। বহু উত্থান পতনের মাঝখান দিয়ে বার বার ভাষা তার নিজস্ব আঙ্গিক তুলে ধরেছে। ভেঙ্গেছে নিজের শৈলী। আবার গড়ে উঠেছে চেতনার রঙে। এই হাতবদল যেকোনো ভাষার চরম প্রাপ্তি, তার নিজের মতো করে উজ্জীবিত হয়ে ওঠার প্রসেস।এভঠবেই ভাষার জয়যাত্রা। তবু এই বিবর্তনের ইতিহাস সব ক্ষেত্রে সময়ের নিরিখে ধরে রাখা হয়নি। ইতিহাস লিখতে ভাষার যে আগ্রহ, ভাষার ইতিহাস লিখতে ঐতিহাসিকেঠ° সে আগ্রহ নেই। তবু কালের নিয়মেই ভাষা সে ইতিহাস নিজেই লিখে রেখেছে নিজের অজান্তে বিভিন্ন মাধ্যমে। আজ সেরকমই একটা কালানুক্রঠ®à¦¿à¦• দলিল প্রস্তুত করতে শরণাপন্ন হলাম ক্রোড়পত্রৠ‡à¦° চৌকাঠে।

সংবাদপত্র মূলত সংবাদ পরিবেশনের একটি গুরুত্বপূঠ°à§à¦£ ও সিরিয়াস মাধ্যম। তবে বাংলা ভাষা, তার কৃষ্টি, দর্শন বাংলা সংবাদপত্র গুলিতে পরিবেশিত হয়েছে সাহিত্য রসের আঙ্গিকে। ফলতঃ খবরের পাশাপাশি বহু সৃষ্টিধর্ম à§€ মৌলিক সাহিত্য জন্ম নিয়েছে বাংলা সংবাদপত্রৠর বিভিন্ন ক্রোড়পত্রৠ‡à¥¤ খুব স্বাভাবিক ভাবেই সেইসব রচনায় উঠে এসেছে সমসাময়িক আর্থ সামাজিক প্রসঙ্গ, শিল্প সাহিত্য, এমনকি সমাজের প্রতিফলন। ক্রোড়পত্রৠ‡à¦° এই ধারাবাহিক ব্যাপ্তির পরতে পরতেই লুকিয়ে আছে সাহিত্য বিবর্তনের ইতিহাস, সময় করে যাকে তুলে ধরার কথা মনে হয়নি আমাদের অনেকেরই। আজ ভাষাদিবসেঠঅছিলায় সেই টাইম ট্রাভেলটা সেরে নেওয়া যাক একবার।

বাণিজ্যিক সংবাদপত্রৠর ক্রোড়পত্র বা পূজাবার্ষঠকী তে লেখেননি বাংলা সাহিত্যে এমন প্রতিষ্ঠিত লেখক প্রায় নেই – শরৎচন্দ্র অবশ্য ব্যতিক্রমॠতবে বলতেই হয় বিরল ব্যতিক্রমॠএমনকি রবীন্দ্রনঠথও “রবিবার”, “ল্যাবরেটঠ¾à¦°à¦¿â€ ও “প্রগতি সংহার” – এই তিনটে গল্প লিখেছিলেন আনন্দবাজাঠের ১৯৪০, ১৯৪১, ও ১৯৪২ সালের পূজাবার্ষঠকীতে। একই ভাবে বিভূতিভূষঠ£à§‡à¦° â€œà¦®à§à¦•à§à¦¨à§à¦¦à§‡à ¶à§à¦¬à¦°â€ ও “সান্ত্বনঠ” প্রকাশিত হয় ১৩৬২ ও ১৩৬৪ à¦¬à¦™à§à¦—à¦¾à¦¬à§à¦¦à§‡à ° দোল সংখ্যায়। যদিও ক্রোড়পত্র বলতে সাধারণ অর্থে আমরা যা বুঝি সেটা বিনামুল্যৠবিতরিত সংবাদপত্রৠর অংশ বিশেষ। সে অর্থে হয়তো পূজাবার্ষঠকী এই আলোচনার বাইরেই থাকবে।তবু তার গুরুত্বকে কিছুতেই খর্ব করা যাবে বলে মনে হয় না।

আনন্দবাজাঠে প্রথম ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালে। ১২০ পাতার এই ক্রোড়পত্র ছিল কলকাতা কংগ্রেসের ওপর, যার সমস্ত কপি বিক্রি হয়ে যায় মাত্র দু ঘণ্টায়। এই সময়টা মানে প্রাক ১৯৩০ সালের রাজনৈতিক আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপঠŸà¦Ÿà¦¾ কিন্তু খুব গুরুত্বপূঠ°à§à¦£à¥¤ মনে রাখতে হবে ১৯২১ এর অসহযোগ আন্দোলনের কথা এবং অবশ্যই ১৯২৫ এ ভারতে কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠার কথা। এমনিতেই ফ্রয়েড এর মনবিকলন ত্বত্ত্ব, তার শিষ্য অয়াডলার ও এলিষের প্রেমের দেহবাদী ও যৌনবাদী ব্যাখ্যা, বারনাড শ ও ফেরিয়ানের নব অর্থনৈতিক চিন্তা তখন সমকালীন বুদ্ধিজীবঠদের একেবারে নাড়িয়ে দিয়েছে। তার মধ্যেই কমিউনিস্ট পার্টির হাত ধরে এলো মার্ক্স লেনিনের সাম্যবাদেঠধারনা।সব মিলিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি তখন বোধ ও বুদ্ধির সীমাবদ্ধতঠকে ভেঙে গুঁড়িয়ে নতুন ফর্মের জন্ম দিতে উৎসুক। সজনীকান্তৠ‡à¦° ভাষা ধার করলে বলতে হয় “ বঙ্গবাণীর নিরামিশ অঙ্গনে তাজা রক্তের ছাপ পড়িতেছে। সেকি উত্তেজনা, সে কি উন্মাদনা”ॠ¤à¦à¦°à¦‡ মাঝে ১৯৩৬ সালে আনন্দবাজাঠে এল à¦²à¦¾à¦‡à¦¨à§‹à¦Ÿà¦¾à¦‡à¦ªà ¤ প্রথম লাইনোটাইপ সংখ্যার জন্য সম্পাদক সুরেশচন্দৠর সজনীকান্তঠ•ে অনুরোধ করলেন একটা মনোরঞ্জক গল্প লিখে দিতে যাতে à¦²à¦¾à¦‡à¦¨à§‹à¦Ÿà¦¾à¦‡à¦ªà ‡ অনভ্যস্ত পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখা যায়। সজনীকান্ত লিখলেন তার বিখ্যাত গল্প “পান্নালাঠ”। এভাবেই নতুন হরফের সাথে পরিচয় হল পাঠকের। গল্পের একটা ছোট্ট অংশ তুলে ধরা যাক, “ যে বৎসর ইউরোপীয় মহাযুদ্ধ সংঘটিত হয়, পান্নালাল সে বৎসর হামাগুড়ি দিয়া দরজার চৌকাঠ ডিঙ্গাইতে শুরু করিয়াছে। অভিধানে পাওয়া যায় এমন দু চারটি শব্দও উচ্চারণ করিতেছে এবং মায়ের কোমর ধরিয়া প্রায় উদয়শঙ্করী ভঙ্গীতে নাচিতে আরম্ভ করিয়াছে। সুতরাং পান্নালাল কে পোষ্ট ওয়ার তরুণও বলা চলে”। বলাই বাহুল্য যে এই অল্প পরিসর রঙ্গ কৌতুকের মধ্যেও সমকালীন জীবনের ছাপ খুব পরিষ্কার এবং স্বাভাবিকॠঠিক যেমন ১৯৪২ এ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ের পরিপ্রেক্ঠ·à¦¿à¦¤à§‡ লেখা সুবোধ ঘোষের গল্প “কর্ণ ফুলির ডাক” বয়ে নিয়ে আসে যুদ্ধের ভয়াবহতা এক সাধারণ শিক্ষকের দৃষ্টিকোণ থেকে।

ক্রোড়পত্র অবশ্যই নতুন সাহিত্যিকঠের আখড়া। তা না হলে বনফুল, আশাপূর্ণা দেবী, বানীব্রত চক্রবর্তী থেকে আজকের প্রচেত, স্মরণজিত অবধি সবারই প্রায় জনপ্রিয়তার একেবারে গোড়ার কথা ক্রোড়পত্র হয়ে উঠতে পারত না। বিমল করের প্রথম গল্প যদিও বা চাপা হয়েছে দেশ পত্রিকায় ১৯৫২ সালে। তবু ১৯৫৪ সালে রবিবাসরীয়ঠপাতায় লেখা তার “খিল” গল্পটি থেকেই তার বিমূর্ততাঠকনসেপ্ট বেশ সুন্দর ভাবে বোঝা গিয়েছিল। গল্পের প্লট খানিক টা রবীন্দ্রনঠথের হঠাৎ দেখার সাথে মিলে যায়। কিন্তু প্লট এন্যালিসিস ের যথেষ্ট সুযোগ থাকা স্বত্ত্বেঠএই গল্পে আমরা একজন ন্যারেটার কেই আবিষ্কার করি যে কিনা শুধু একটা ঘটনার বিবরণ দিয়ে যাচ্ছেন। কোথাও কোনও এক্সপ্ল্যঠনেশনের পথে হাঁটছেনই না। ভাষা আবারও তার চেনা গত পাল্টাচ্ছৠ, সাহিত্য পাল্টাচ্ছৠতার প্লটের ডায়নামিক্ঠ। ১৯৫৩ সালের গল্প “সন্দেশ” লেখক জ্যোতিরিনৠদ্র নন্দী। রাউন্ড স্টোরির বাইরে গিয়েও ক্রোড়পত্র যে নতুন কিছু সংযোজিত করতে পারে এ গল্প তারই প্রমাণ।গলৠপে উঠে এসেছে একটা রেডিওর প্রসঙ্গ। আজকের বর্তমান গ্যাজেট মুখী সভ্যতার আদিম রুট হিসেবে ধরে নিতে পারি ওই à¦°à§‡à¦¡à¦¿à¦“à¦Ÿà¦¾à¦•à§‡à ¥¤ একটা রেডিও, সামান্য একটা যন্ত্র যার জন্য কিনা এক প্রেমিকা প্রেমের ইতি টানতেও পিছপা হয় না। রেস্তোরাঁৠŸ নিজের বান্ধবীকে অন্য পুরুষের সাথে দেখে প্রেমিক নীলাদ্রী যেখানে উচ্চারণ করে “বিচ”, “হোর” এই জাতীয় শব্দ। ক্রোড়পত্রৠ‡ মুখ খারাপের সময় বোধহয় এখান থেকেই শুরু। আসতে আসতে মধ্য ষাটের দশকের গল্প গুলোয় ঢুকতে থাকলে দেখবো কি সহজেই জনবহুল ধর্মতলা, ফুটপাথের হকার, প্রোমোশন ডিমোশন, à¦‡à¦¨à§à¦¸à¦¿à¦“à¦°à§‡à¦¨à à¦¸ পলিসি, পেনাল্টি ইত্যাদি বিষয়গুলো à¦—à¦²à§à¦ªà¦—à§à¦²à§‹à¦•à §‡ করে তুলছে শহরমুখী। Modernism এর হাওয়া লাগছে ক্রোড়পত্রৠ‡à¦° পাতায় পাতায়। ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত রমাপদ চৌধুরীর গল্প “বসবার ঘর”এ একেবারে স্পষ্ট হয়ে উঠছে মধ্যবিত্তৠর চাওয়া পাওয়া। সংসারের দায়ভার, ছেলের মিশনারি স্কুলের জোয়াল টানতে গিয়ে কিভাবে একটা কেতাদুরস্ঠ¤ বসবার ঘর না পাওয়ার বেদনা একটা দম্পতির সাধারণ সুখ দুঃখের পরিভাষাকে পালটে দিচ্ছে, এ গল্প সে কথা বলে। কেমন যেন চেনা চেনা লাগতে শুরু করে এ গল্পের স্বচ্ছলতাঠস্বপ্ন।সত্ তের দশকে ঢুকতে ঢুকতে দেখব ক্রোড়পত্রৠ‡à¦° গল্প আসতে আসতে কেমন হয়ে উঠছে সাধারনের জবানবন্দীॠভাষায়, প্লটে বেজে উঠছে সেই খুব চেনা সুরের হারমোনিকাॠ¤ কল্পলোকের এসরাজের ঝঙ্কার সেখানে বড়ই বেমানান। অবশ্য পুরোটাই যে শহুরে জীবনের প্রতিচ্ছবঠতেমন বললে মিথ্যে বলা হবে। ষাটের দশকেই যুগান্তর সাময়িকী তে তারাশঙ্কর লিখছেন “কীর্তি হাটের কড়চা”, ধারাবাহিক ফরম্যাটে। গ্রাম বাংলার বিভিন্ন অদেখা চিত্র উঠে আসছে এই লেখায়।

সত্তর আশির দশক বাংলার আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপঠŸà§‡ বিশাল গুরুত্বপূঠ°à§à¦£ একটা সময়। সংবাদপত্রৠর ক্ষেত্রেও তার প্রভাব গভীর। একদিকে মুক্তিযুদৠধ অন্য দিকে প্রেস সেন্সরশিপৠর মাধ্যমে সংবাদপত্রৠর কণ্ঠরোধ। বিভিন্ন দোলাচল কাটিয়ে আমরা দেখলাম একের পর এক নতুন সংবাদপত্রৠর আত্মপ্রকাঠ¶ ঘটছে। আজকাল, বর্তমান, উত্তরবঙ্গ সংবাদ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান গুলির জন্ম কিন্তু এই আশির à¦¦à¦¶à¦•à§‡à¦‡à¥¤à¦¸à¦¾à¦¹à ¿à¦¤à§à¦¯ চর্চায় আনন্দবাজাঠের একচেটিয়া সাম্রাজ্যৠঢুকে পড়ল পারফেক্ট কম্পিটিশনॠআশির দশকেই পরিবেশিত হতে শুরু করল বিনোদনমূলঠ• মেয়েদের পাতা, শনিবারের ক্রোড়পত্রॠ¤ বুদ্ধদেব গুহ, সুনীল, শীর্ষেন্দৠ, নবনীতা, সমরেশ মজুমদার, দিব্যেন্দৠপালিত ইত্যাদি তাবড় তাবড় মহারথীদের পদ সঞ্চালনে ক্রোড়পত্রৠ‡à¦° জমিন তখন উর্বরতার অপ্টিমাম à¦²à§‡à¦­à§‡à¦²à§‡à¥¤à¦—à¦²à §à¦ªà§‡à¦° প্লটেও উঠে আসছে সে সমকালীন প্রেক্ষাপঠŸà¥¤ নারী স্বাধীনতাঠপ্রসঙ্গ আসছে, আসছে সমকালীন রাজনৈতিক অন্তরদ্বনৠদ্বের কথা।উঠে আসছে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে স্বামীর মুখে ভাত তুলে দিতে স্ত্রীর বেশ্যাবৃতৠতি অবলম্বনের প্রসঙ্গ। সবটা জেনেও আপোষ করা স্বামীর অসহায়ত্ব বাংলা ভাষাকে করে তুলছে আরো বেশী পরিণত ও যুগোপযোগী ¥¤ আশির দশকের গোড়ার দিকে লেখা শীর্ষেন্দৠà¦° গল্প “আমেরিকা” পড়লে বেশ বোঝা যায় সেই সময়কার বামপন্থী রাজনীতির মূলে যে আমেরিকা বিদ্বেষী মনোভাব তার ছায়া কিভাবে সাহিত্যেও ঢুকে পড়েছে। আসলে এই সময়টায় গল্পের à¦•à¦¨à§à¦Ÿà§‡à¦¨à§à¦Ÿà§‡à ° সাথে সাথে ফর্ম খুব বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূঠ°à§à¦£ হয়ে ওঠে।শুধু ফর্মের জোরে সামান্য ঘটনাপ্রবাহ কি করে একটা গোটা সাহিত্য হয়ে ওঠে এই সময়ের ক্রোড়পত্র সেই হিসেব দেয়।

নব্বইয়ের নয়া অর্থনীতি যখন সমগ্র ভারতীয় চিত্রকেই আমূল পালটে দিচ্ছে তখন সাহিত্য সেই মারের বাইরে থাকবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। ১৯৯০ থেকে ২০১০ এই সময়ের মধ্যে আমরা আমূল পাল্টে গেছি ভেতরে বাইরে। হুড়মুড় করে আমাদের শব্দ ভান্ডারে ঢুকে পড়েছে বেশ কিছু নতুন শব্দ। প্লটেও আসছে নতুনত্বের ছোঁয়াচ। লেখা হচ্ছে হোমো সেক্সুয়ালঠ¿à¦Ÿà¦¿ নিয়ে, কল সেন্টার হয়ে উঠছে গল্পের প্রেক্ষাপঠŸà¥¤ মাঝ রাতের কোলকাতা জেগে উঠছে আই টি পার্কের রঙ্গিন আলোয়। এই সময়ের খানিক আগেই (১৯৯৭) তসলিমা লিখে ফেলেছেন “আমার à¦®à§‡à§Ÿà§‡à¦¬à§‡à¦²à¦¾â€à ¦° বেশ কিছুটা অংশ রবিবাসরীয়ঠপাতায়। পরিবর্তনেঠহাওয়ায় আসতে আসতে ভোল পাল্টাচ্ছৠক্রোড়পত্রॠ¤à¦à¦°à¦‡ মাঝে দুম করে এক রবিবার পাঠক দেখলো পাল্টে গেছে সেই চেনা রবিবাসরীয়ঠমুখ। ২০০৩ সালের ২৩শে মার্চ। কোথায় সেই রাবীন্দ্রঠক লুক। রবি টুকু সোজা রেখে কালের স্রোতে গা এলানো বাসরীয়। খোঁজ নিয়ে দেখা গেল সম্পাদক রংগন চক্রবর্তী, ডিজাইনার ইন্দিরা বসু, চন্দ্রিল ভট্টাচার্য এবং অনির্বাণ চৌধুরীর মস্তিষ্ক প্রসূত এই নব কলেবর। পাঠকের মেনে নিতে সময় লেগেছিল। সে তো লাগেই। রবীন্দ্রনঠথ যখন “হিতবাদী” পত্রিকায় প্রথম ছোট গল্প লেখেন তখন খোদ সম্পাদকই মেনে নিতে পারেননি এই নতুন ফর্ম। জীবনানন্দ কেও তার সমকাল কোথায় বুঝল। কিন্তু আসতে আসতে আমরা দেখলাম ক্রোড়পত্র তার নান্দনিক, রক্ষণশীল সত্তা ছেড়ে হয়ে উঠলো উত্তর আধুনিক। ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতিদিনেঠ“রোববার” প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে সে জোয়ারে জুড়ে গেল নতুন উদ্দ্যম। প্রথমে ঋতুপর্ণ ঘোষ এবং পরে অনিন্দ্য চটোপাধ্যাৠের যোগ্য সম্পাদনায় রোববার কিন্তু প্রকৃত অর্থেই বাংলা সাহিত্যের এক গুরুত্বপূঠ°à§à¦£ দলিল হয়ে উঠেছে। ফার্স্ট পার্সন কিম্বা ভালোবাসার বারান্দা আজ যখন বই আকারে প্রকাশ পায় তখন তার জনপ্রিয়তাঠপ্রমাণ করে রোববারের সাফল্য। আসলে নব্বুয়ের দশকের সময়কালে যেহেতু সেরকম শক্তিশালী নতুন লেখক খুব একটা উঠে আসেন নি তাই ক্রোড়পত্রৠ‡ পাঠক ধরে রাখতে দৃষ্টিভঙ্ঠি পাল্টাতে হয়েছে স্বাভাবিক নিয়মেই।

খবর কাগজ ডিজিটালাইঠেশন হওয়ার পর থেকে পছন্দের লেখাগুলো আর্কাইভ হচ্ছে খুব যত্ন সহকারে। কিন্তু তার আগের ইতিহাস সত্যিই ধোঁয়াশায় ঘেরা। দু একটা বড় হাউস ছাড়া বাকি যে অজস্র ছোট কাগজের পাতায় পাতায় সহস্র গল্প লেখা হল, তাকে ধরে রাখার প্রয়াস খুব একটা চোখে পড়ে না। রদ্দির দরে সে সব অভিনব সাহিত্য নির্যাস বিক্রি হয়ে গেছে হাটে বাজারে। গৌরকিশোর ঘোষ, হিমানীশ গোস্বামী, অতীন বন্দ্যোপাঠ্যায়, দেবেশ রায়, রবিশংকর বল, বীরেন শাসমলের মতো অজস্র গুণী সাহিত্যিক উঠে এসেছেন যে সব খবরের কাগজের পাতা থেকে, তা কি শুধুই মলাট হয়ে পড়ে থাকার কথা ছিল? অস্বীকার করার জায়গা নেই, খুব সিরিয়াস সাহিত্য চর্চার ক্যানভাস সংবাদ পত্র নয়। জন সাধারণের দৈনন্দিন জীবনের সাথে খাপ খায় এমন বোধ ও বুদ্ধির খোরাক ক্রোড়পত্রॠ¤ উইসডম ইন এ স্মাইলিং মুড আর কি। তবু সুদীর্ঘ সত্তর বছ্র যাবত ফি সপ্তাহে একাধিক প্রতিষ্ঠান ে এই যে গল্প, প্রবন্ধ গুলি লেখা হচ্ছে বাংলা ভাষার বিবর্তনের ইতিহাস লেখার সময় তাদের মূল্যায়ন কি ভীষণ অবশ্যম্ভাঠী নয়?